
পদোন্নতির দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা
- আপলোড সময় : ২৬-০২-২০২৫ ০৪:২৪:৩৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০২-২০২৫ ০৪:২৪:৩৭ অপরাহ্ন


স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনে দ্রুততম সময়ে সুপারনিউমারারি পদোন্নতির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন, এরমধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামী ৮ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডিরেক্টর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তারা এসব কথা বলেন।
চিকিৎসকদের দাবি, তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে বারবার বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির মতো চরম কর্মসূচিতে যাচ্ছেন। তারা বলেন, ঘোষিত কর্মসূচির সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে এর দায় মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে।
বঞ্চিত এসব চিকিৎসকরা বলেন, ছাত্র-জনতার এক অবিস্মরণীয় রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিজমের সমূল ওপড়ে যে নতুন স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি, তার প্রধান মূলমন্ত্র ছিল সমাজের সর্বস্তরে বৈষম্যের বিলোপ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এরই পথ ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা আর সহযোগিতার অঙ্গীকার রেখে সাম্যের এক নতুন দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের ওপর এসে পড়েছে। এরই অংশীদার বর্তমান স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামও এর অংশ।
তারা বলেন, বাংলাদেশের নানা বিষয়ে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাদের সবটুকু পরিশ্রম ও সততা নিয়ে এ দেশের মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি জুলাই-আগষ্টের গণহত্যায় তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে চিকিৎসাসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু বিগত ১৫ বছরের বেশি সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনে স্বাস্থ্য প্রশাসন স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষাকে ভঙ্গুর দশায় পরিণত করেছে। এই অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে ২৬টি ক্যাডারদের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সবচেয়ে বেশী নিগৃহীত ও অবহেলা সহ্য করতে হয়েছে।
বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দাবিসমূহ-১. বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সময়ে যারা বিভিন্ন কারণে পদোন্নতি বঞ্চিত চিকিৎসকদের ভূতাপেক্ষিকভাবে পদোন্নতি দিতে হবে। ২. পদোন্নতি প্রার্থীর সংখ্যা এত বেশি যে শুধুমাত্র পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে বর্তমান সংকট হতে উত্তরণ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে জনগণের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে নানা বিষয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন পদ সৃষ্টি করা। ৩. সম্ভাব্য নতুন পদের জন্য বর্তমানে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে অধিক সংখ্যায় ভূতাপেক্ষভাবে পদের অতিরিক্ত পদোন্নতি/সুপারনিউমারারি/ইনসিটু পদোন্নতি দিয়ে বিদ্যমান জট কমিয়ে জনগণের স্বাস্থ্য সেবার পথ সুগম করা। ৪. সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সব বিষয়ে দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে সব বিষয়ে সহকারী/সহযোগী/ অধ্যাপক পদে ভূতাপেক্ষভাবে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি ও প্রয়োজনে ইনসিটু পদোন্নতি। ৫. যেহেতু প্রতি বছর অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অবসরে যান এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ গুলোতে মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পায়, সেহেতু প্রতি বছর অন্তত দুইবার পদোন্নতির নিয়ম চালুকরা এবং আন্ত ও অন্তঃক্যাডার বৈষম্য কমিয়ে আনতে একটি যুগোপযোগী পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন করা। প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের আহ্বায়ক ডা. মির্জা মো. আসাদুজ্জামান রতন, সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ আল আমিনসহ আরও অনেকে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ